দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন চিকিৎসককে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ সম্বোধন করায় রোগীকে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের বোর্ড অফিস এলাকার বাসিন্দা তানভীর হাসান তার দুই বছর বয়সী ছেলে রুজায়াইনকে নিয়ে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান। পরিবারের দাবি, বিড়ালের আঁচড়ে আহত শিশুকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
তানভীর হাসানের অভিযোগ, জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল ইসলামকে সালাম দিয়ে ‘ভাই’ সম্বোধন করে শিশুর বিষয়ে জানালে চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে বিড়ালের আঁচড় বা কামড়ের প্রয়োজনীয় টিকা নেই, বিকেলে আসতে হবে। পরে চিকিৎসকের মোবাইল নম্বর চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং ‘আপনি একজন বিসিএস ক্যাডারকে ভাই বলে ডাকেন, আবার তার ফোন নম্বর চান’—এমন মন্তব্য করে একপর্যায়ে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে চলে যেতে বলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রোগীর স্বজনকে বলতে শোনা যায়, ‘প্রথমে ঢুকেই আপনাকে সালাম দিলাম, এরপর ভাই বললাম। আপনি কোন গেজেটেড অফিসার যে আপনাকে ভাই বলা যাবে না?’ জবাবে চিকিৎসক বলেন, ‘আপনি চলে যান, আপনার সঙ্গে কোনো কথা বলব না।’
তানভীর হাসান বলেন, তিনি অসুস্থ শিশুকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সম্মান রেখেই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু ‘ভাই’ সম্বোধন করায় চিকিৎসক বিরক্ত হন এবং পরে চিকিৎসা না দিয়ে চলে যেতে বলেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডা. মো. আরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপেও বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
তবে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল খায়ের মাহমুদ বলেন, ডা. আরিফুল ইসলাম দায়িত্বশীল ও কর্মঠ চিকিৎসক। তার ভাষ্য, ঘটনাটি মূলত ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে। রোগীর স্বজনকে হাসপাতালের অফিসিয়াল নম্বর দেওয়া যেতে পারত। এছাড়া ভিডিওতে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করতে নিষেধ করার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে শোনা যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
এমএম/